বৃষ্টিপাতের কারণ কী? – কীভাবে বৃষ্টিপাত হয়?

সুপ্রিয় পাঠকগণ, বৃষ্টিপাতের কারণ কী? অথবা, কীভাবে বৃষ্টিপাত হয়? সহজ ভাষায় বিস্তারিত জানুন আজকের এই পোস্টের মধ্যেমে।

বৃষ্টিপাতের কারণ

সূর্যতাপে সাগর, মহাসাগর, নদী, খাল, বিল, পুকুর প্রভৃতি জলভাগ থেকে সর্বদাই জল বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে যায়। জলীয় বাষ্প হালকা বলে ওপরে উঠে যায়। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু যতই ওপরে ওঠে, তার চাপ তত কমে আয়তন বাড়ে ও উয়তা হ্রাস পায়। এর ফলে ওই বায়ু পরিপৃক্ত হয় এবং শেষে বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণার কেলাসিত তথা সমন্বিতরূপ বা মেঘ সৃষ্টি করে।

জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পরিপৃক্ত হলে মেঘ সৃষ্টি হয়, কারণ-যে-কোনো বায়ুরই জলীয় বাষ্প ধারণ করার একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা আছে। উয় বায়ু বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করে এবং উয়তা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতাও কমে যায়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট উয়তায় বায়ু নির্দিষ্ট পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। যখন কোনো জায়গার বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ওই নির্দিষ্ট পরিমাপের শেষ সীমায় পৌঁছোয়, তখন তাকে বায়ুর পরিপূক্ত অবস্থা বলা হয়।

বৃষ্টি কিভাবে হয় class 6

পরিপৃক্ত বায়ুর উয়তা শিশিরাঙ্কের নীচে নেমে গেলে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা, লবণের কণা প্রভৃতিকে আশ্রয় করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা ও তুষারকণায় পরিণত হয়ে মেঘ হিসেবে ভেসে বেড়ায়। নেদের মধ্যে ভাসমান জলকণাসমূহ ছোটো-বড়ো নানা আকারের হয়।

ভাসমান অবস্থায় বড়ো কশার সঙ্গে ছোটো কণার সংঘর্ষ হলে বড়ো কণা ছোটো কণাকে গ্রাস করে। এইভাবে বড়ো কণাগুলি আরও বড়ো হয় এবং ভারী হয়ে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নীচের দিকে বৃষ্টিরূপে পড়তে থাকে। সুতরাং, বৃষ্টিপাত হল একসঙ্গে বহু জলকণার পতন।

Leave a Comment